পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার পূর্বধলায় উপজেলা শিক্ষক ও কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
বহুল আলোচিত এ নির্বাচনে ৯টি পদে দুটি প্যানেলের মোট ১৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্যানেল দুটি হলো—‘মোস্তফা, আশিক, রতন পরিষদ’ এবং ‘রুপন, নিলয়, মোশারফ পরিষদ’। নির্বাচনে উপজেলার মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, দাখিল ও প্রাথমিক পর্যায়ের ৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১৪৯ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
নির্বাচন কমিশনার ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা তরুলতা সাহা জানান, সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত মোট ১৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৮০ জন ভোট দিয়েছেন। সে হিসাবে ওই সময় পর্যন্ত ভোট পড়ার হার ৫৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
‘মোস্তফা, আশিক, রতন পরিষদ’ থেকে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মৌদাম সেসিপ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বই প্রতীক নিয়ে আশিক মাহমুদ এবং সেক্রেটারি পদে দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে মোহাম্মদ রতন খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ প্যানেল থেকে পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহাম্মদ ফারুক হোসেন ফকির (ডাব), মো. আরিফুজ্জামান (টিউবওয়েল), তানভীর আঞ্জুম (মই), ফরিদা আকন্দ (ঝুড়ি), দিলরুবা বেগম (টেলিভিশন) ও ফরিদা ইয়াছমীন (কলসি)।
অন্যদিকে, ‘রুপন, নিলয়, মোশারফ পরিষদ’ থেকে চেয়ারম্যান পদে চেয়ার প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আনোয়ার আহাম্মদ (রুপন)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে আপেল প্রতীক নিয়ে মো. গোলাম মোশারফ এবং সেক্রেটারি পদে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নিলয় চক্রবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ প্যানেলের পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. এমদাদুল হক মিলন (মোরগ), মো. বদরুজ্জামান তালুকদার (জুয়েল) (বাইসাইকেল), মো. সোহাগ তালুকদার (মাছ), মো. মোস্তফা কামাল (বৈদ্যুতিক বাল্ব), মো. কবীর শেখ (বালতি) ও মলি রানী রায় (হাঁস)।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতিতে কেন্দ্র এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দুই প্যানেলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। উভয় প্যানেলের প্রার্থীরাই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
নির্বাচন কমিশনার তরুলতা সাহা বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুটি বুথে প্রিসাইডিং অফিসারসহ প্রয়োজনীয়সংখ্যক ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, বেলা সাড়ে ১১টায় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি জয়-পরাজয় মেনে নিয়ে উভয় প্যানেলের প্রার্থীরা নির্বাচনের ফলাফল গ্রহণ করবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।