পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় তিন দিনে ৫৪টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মানসুরা আলম। দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে তিনি পূজামণ্ডপের আয়োজক, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। পাশাপাশি পূজার সার্বিক পরিবেশ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিজ এলাকা পূর্বধলায় অবস্থান করে তিনি বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় পূজার আয়োজন, সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পরিদর্শন করা উল্লেখযোগ্য পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের সার্বজনীন পূজামন্দির, রাজপাড়া (মঙ্গলবাড়িয়া), পাটবাজার, কালীবাড়ি, নারায়ণডহর বাজার, ত্রিমোহনী দুর্গামন্দির ও তারাকান্দা কালীমন্দির। হোগলা ইউনিয়নের সার্বজনীন সনাতনী উপাসনালয়, সাধুপাড়া ও হোগলা বাজার কালীমন্দির; জারিয়া ইউনিয়নের জারিয়া বাজার দুর্গামন্দির, বোর্ড বাজার দুর্গামন্দির ও বাড়হা কালীবাড়ি মন্দিরও পরিদর্শন করেন তিনি।
এ ছাড়া গোহালাকান্দা ইউনিয়নের ইসবপুর মন্দির, শ্যামগঞ্জ, জালশুকা কুমুদগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও মাঝিপাড়া রাজাগোবিন্দ মন্দির; নারান্দিয়া ইউনিয়নের শাহবাজপুর দুর্গামন্দির; খলিশাউড় ইউনিয়নের শিমুলকান্দি বাজার দুর্গামন্দির; ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের পাঁচমারকান্দা দুর্গামন্দির ও জামধলা বাজার দুর্গামন্দির এবং ঘাগড়া ইউনিয়নের ঘাগড়া বাজার মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য।
পরিদর্শনকালে তিনি দুর্গাপূজা চলাকালে যেন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সব ধর্মের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব স্বাধীনভাবে, নিরাপদে ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদ্যাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রেখেছেন মানসুরা আলম। উৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন পূজামণ্ডপের পরিস্থিতির খোঁজখবর নিচ্ছেন তিনি।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’—সম্প্রীতি ও নাগরিক অধিকারে গুরুত্ব
মানসুরা আলমের মতে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার, আইনের শাসন, মানবিক মর্যাদা ও সাম্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, জনগণের অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি মনে করেন, বর্ণ, ধর্ম, মত কিংবা পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন নয়; বরং সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিটি নাগরিকের চিন্তা ও চেতনায় স্থান পেতে হবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রত্যয়। তাঁর মতে, সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
সংসদ সদস্যের এই ধারাবাহিক পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য হিসেবে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।