চলচ্চিত্রই হতে পারে ভাষা শেখার ‘জীবন্ত শ্রেণিকক্ষ’: মানসুরা আলম। - bhorershomoyonline.com.bd চলচ্চিত্রই হতে পারে ভাষা শেখার ‘জীবন্ত শ্রেণিকক্ষ’: মানসুরা আলম।

বেকিং নিউজ

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

Header Adds












চলচ্চিত্রই হতে পারে ভাষা শেখার ‘জীবন্ত শ্রেণিকক্ষ’: মানসুরা আলম।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

চলচ্চিত্রকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানুষের জীবনকে বোঝার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংসদ সদস্য মানসুরা আলম। তিনি বলেছেন, একটি চলচ্চিত্র একটি ভাষার শব্দ ও ব্যাকরণের বাইরেও সেই ভাষাভাষী মানুষের জীবনযাপন, অনুভূতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতা বোঝার সুযোগ তৈরি করে।

রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে ভাষা মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত ‘IML Film Fest’-এর দ্বিতীয় আসরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মানসুরা আলম বলেন, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি পৃথিবীকে দেখার একটি জানালা। নতুন একটি ভাষা শেখার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী নতুন সমাজ, সংস্কৃতি ও চিন্তার জগতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। এ প্রসঙ্গে তিনি দার্শনিক লুডভিগ ভিটগেনস্টাইনের ভাষা ও জগতের সম্পর্কবিষয়ক ধারণার উল্লেখ করেন।

চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ভাষা শেখার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, একটি বই কোনো শব্দের অর্থ ও ব্যবহার শেখাতে পারে; কিন্তু চলচ্চিত্র সেই শব্দের ব্যবহারিক প্রেক্ষাপট, বক্তার অনুভূতি, মুখের অভিব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক তাৎপর্যকে আরও জীবন্তভাবে তুলে ধরে। এ কারণে চলচ্চিত্রকে তিনি ভাষা শিক্ষার ‘জীবন্ত শ্রেণিকক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রেও চলচ্চিত্রের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি অস্কারজয়ী 12 Years a Slave চলচ্চিত্রের উদাহরণ দেন। তাঁর মতে, ইতিহাসের বই কোনো ঘটনার তথ্য তুলে ধরতে পারে, কিন্তু একটি শক্তিশালী চলচ্চিত্র দর্শককে সেই ইতিহাসের মানবিক অভিজ্ঞতার কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে।

মানসুরা আলম বলেন, ‘IML Film Fest’ শুধু চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন নয়; এটি ভাষা শিক্ষাকে শ্রেণিকক্ষের সীমার বাইরে নিয়ে যাওয়ার একটি সৃজনশীল উদ্যোগ। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের ভাষা শেখার পাশাপাশি ভিন্ন সংস্কৃতি ও মানুষের জীবন সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি করবে।

বর্তমান বিশ্বে বহুভাষিক দক্ষতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, কূটনীতি, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একাধিক ভাষায় দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুধু ইংরেজির ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের আরও ভাষা শেখার প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে মাধ্যমিক পর্যায়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মানসুরা আলম বলেন, বিদেশি ভাষা শিক্ষা এখন শুধু সাংস্কৃতিক চর্চার বিষয় নয়; দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের ভবিষ্যৎ কর্মশক্তি গঠনের সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশের ভাষাবৈচিত্র্য সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বাংলা ভাষার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বহু ভাষা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ভাষার কিছু বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে রেংমিটচা ভাষার মতো বিপন্ন ভাষা সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ভাষা-চর্চাকারীদের এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, একটি ভাষার বিলুপ্তি মানে শুধু কিছু শব্দের হারিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে একটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতারও একটি অংশ হারিয়ে যায়।

সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে সংসদ সদস্য মানসুরা আলম বলেন, সিনেমা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংস্কৃতি কোনো বিলাসিতা নয়; এটি একটি জাতির অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয়ের মৌলিক উপাদান। বাংলাদেশের নিজস্ব সমন্বয়বাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক সমাজ গঠনে সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে। স্বাধীন চিন্তার গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মানসুরা আলম বলেন, বাংলাদেশের সমন্বয়বাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইতিবাচক সাংস্কৃতিক চর্চা গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

অনুষ্ঠানে ভাষা মঞ্চের সভাপতি সোয়াইব ইসলাম ওমি, সাধারণ সম্পাদক কাজী শাহাদাত হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন খুরশেদ অমিওসহ আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, আয়োজক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত চলচ্চিত্র উৎসবের দ্বিতীয় আসরটি ভাষা শিক্ষা, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ তৈরির উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসা পায়। আয়োজনের জন্য ভাষা মঞ্চসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান সংসদ সদস্য মানসুরা আলম।