পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার পূর্বধলায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলতি বছর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ৬৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম।
সভায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম. এ. মান্নান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, পূর্বধলা থানার এসআই রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তরুণ কুমার রায়, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উপজেলা শাখার সভাপতি জীবন কৃষ্ণ রায় ও সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার ভাদুড়ীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া নেত্রকোণা-৫ আসনের সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী আকরামুজ্জামান খান, পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কেবিএম নোমান শাহরিয়ার, সাবেক যুবদলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. আব্রাহাম লিংকন, গণমাধ্যমকর্মী হাবিবুর রহমান ও ইমতিয়াজ আহমেদ সজিবসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আনসার সদস্য এবং বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা সভায় অংশ নেন।
সভায় পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইপি ক্যামেরা স্থাপন, আনসার সদস্য মোতায়েন, নির্ধারিত স্থানে প্রতিমা বিসর্জন, অগ্নিনিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিসর্জন রাত ৭টার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। বিসর্জনের দিন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখা, প্রতিটি মণ্ডপে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা, বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রয়োজনে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রস্তুতি রাখতে হবে। একই সঙ্গে মণ্ডপ এলাকায় মেলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। পূজার আগেই সংশ্লিষ্ট সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নারী ও শিশু দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইভটিজিং ও মাদকসেবন প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি মণ্ডপে নারী-পুরুষের চলাচলের জন্য পৃথক ব্যবস্থা, ভবঘুরে ও অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্কতা এবং যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। পারস্পরিক সমন্বয় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পূজা উদযাপনে প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে।”
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ প্রতিটি পূজা মণ্ডপের জন্য চাল বরাদ্দ বৃদ্ধি ও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পরে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে সভা শেষ হয়।