পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি | ভোরের সময় অনলাইন
নেত্রকোনার পূর্বধলায় হোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কারণে দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের মানববন্ধনের পর সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কারণে যাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে হোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন ইউএনও। তিনি তাঁদের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের স্থান এবং আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। পরে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা শোনেন।
এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কারণে প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মানববন্ধন করেন স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। মানববন্ধন থেকে তাঁরা পুরোনো রাস্তাটি বহাল রাখার পাশাপাশি ভূমি অফিসের জায়গায় বসবাসরত ছয়টি ভূমিহীন পরিবারের পুনর্বাসনের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৫০টি পরিবারের সদস্যরা এ রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও গির্জায় যাতায়াতকারী মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি কৃষিজমির ফসল আনা-নেওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন চলাচলেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পরিদর্শনকালে পূর্বধলা উপজেলা আদিবাসী ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মনেস নওরেক, গারো ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের গ্রাম কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এভারেস্ট হাউই, হোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. খসরুজ্জামানসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কারণে যাতে তাঁদের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বিষয়টি নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
ইউএনও বলেন, চলাচলের রাস্তা নিয়ে স্থানীয়দের সমস্যার কথা আগে তাঁকে কেউ জানাননি। বিষয়টি আগে জানানো হলে হয়তো মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি পালনের প্রয়োজন হতো না। কোনো দাবি-দাওয়া বা সমস্যা থাকলে কারও প্ররোচনায় না পড়ে সরাসরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অথবা জেলা প্রশাসকের কাছে এসে তা জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।
এ ছাড়া হোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জায়গায় বসবাসরত ছয়টি ভূমিহীন পরিবারের পুনর্বাসনের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান ইউএনও। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ছয়টি পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আবেদন করে সহযোগিতার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় ভূমি অফিসের পাশের খালটি সংস্কার করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান ইউএনও। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষকে এর আগেও বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
ইউএনওর সরেজমিনে পরিদর্শন এবং দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ না হওয়ার বিষয়ে তাঁর আশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা।