পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার পূর্বধলায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধার পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে ঘর নির্মাণ, গাছ কেটে ফেলা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সুরুজ আলী (৭৭) পূর্বধলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের কোচখালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কোচখালি গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া (৪৫), মঞ্জু মিয়া (৬৫), জাহাঙ্গীর (৩৮) ও হিমু মিয়ার (২০) সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ আলীর দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন।
লিখিত অভিযোগে সুরুজ আলী উল্লেখ করেন, গত ২২ অক্টোবর সকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অনধিকার প্রবেশ করে ঘাগড়া মৌজার ১১৬৫ ও ১১৬৭ নম্বর দাগে অবস্থিত তাঁর মালিকানাধীন জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। এ সময় বাধা দিলে জমিতে থাকা একটি নারকেলগাছ ও ২০টি সুপারি গাছ কেটে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার খবর পেয়ে সুরুজ আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর ওপর চড়াও হন এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় তাঁকে মারধরের চেষ্টা করা হয় এবং জমি ছেড়ে না দিলে হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ আলী বলেন, “আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁরা আমার জমিতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করেছেন। এ সময় জমিতে থাকা একটি নারকেলগাছ ও ২০টি সুপারি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু এতগুলো গাছের কী অপরাধ ছিল? এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
তবে গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মঞ্জু মিয়া। তিনি বলেন, “আমার জায়গায় ঘর নির্মাণ করতে গেলে তাঁরা বাধা দেন। আমার জায়গায় সুরুজ আলীর লোকজন গাছ লাগিয়েছিলেন। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে গাছ নিয়ে টানাটানি হয়, তবে কোনো গাছ কাটা হয়নি। সুরুজ আলীর লোকজন নিজেরাই গাছ কেটে এর দায় আমার ওপর চাপাচ্ছেন। আমরা কোনো গাছ কাটিনি।”
এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগের কপি
