নিজস্ব প্রতিবেদক, পূর্বধলা (নেত্রকোনা):
নেত্রকোনার পূর্বধলায় একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক ও মানহানিকর অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পূর্বধলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. রুবায়েত খান শান্ত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় পূর্বধলা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রুবায়েত খান শান্ত অভিযোগ করেন, গত ২৫ অক্টোবর খলিশাউর ইউনিয়নের বনপাড়ায় ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তাঁর চাচাতো ভাই হাসিমের পারিবারিক বিরোধের সূত্র ধরে এ ঘটনার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। একপর্যায়ে হাসিমের স্ত্রী ঢাকায় চলে যান। এরপর প্রায় দেড় বছর তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল না। পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার জন্য হাসিমের পাশাপাশি রুবায়েত খান শান্ত ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উদ্যোগ নিলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি করা হয়।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ২৫ অক্টোবর সকালে পারিবারিক অশান্তির মধ্যে হাসিমের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ঐশী ২০টি ঘুমের ওষুধ সেবন করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রুবায়েত খান শান্ত তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তিনি, হাসিম ও পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রথমে পূর্বধলা হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হচ্ছিল।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, ফেরার পথে খলিশাউর ইউনিয়নের বনপাড়ায় ঐশীর নানার বাড়ির সামনে পৌঁছালে তার মা ও নানি তাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মেয়েকে নিজের কাছে রাখতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে হাসিমের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।
রুবায়েত খান শান্তের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার সময় তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় এবং ঐশীর মায়ের খালাতো ভাই ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মুকুল তাঁর গায়ে হাত তোলেন। পরে তিনি পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। ওসি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সঙ্গে পরামর্শ করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতে বলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, পরে মো. আলী সিদ্দিকী তুরাগ ও মো. ইকবাল কবির পিয়াস ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদেরও হামলার হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
রুবায়েত খান শান্তের অভিযোগ, ঘটনার পর রাতে থানায় অভিযোগ করা হলেও তখন চাঁদাবাজি বা লুটপাটের অভিযোগ তোলা হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে মুনজুলের নেতৃত্বে পারিবারিক ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচার চালানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা বন্ধে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।
এ সময় আবুল হাসিম, রাজন খানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
দ্রষ্টব্য: সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই এবং অভিযুক্ত অপর পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা যেতে পারে।