পূর্বধলায় করাত কলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন - bhorershomoyonline.com.bd পূর্বধলায় করাত কলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

বেকিং নিউজ

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

Header Adds












পূর্বধলায় করাত কলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন


পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:

নেত্রকোনার পূর্বধলায় বিসমিল্লাহ করাত কলে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মানববন্ধন করেছেন মিল মালিক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে পেট্রোল ঢেলে পরিকল্পিতভাবে করাত কলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মিলের মালিক।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের ঘাগড়া বাজারসংলগ্ন বিসমিল্লাহ করাত কলের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে মিলের মালিক, শ্রমিক, কাঠ ব্যবসায়ী, ভ্যানচালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মিল মালিক শফিক মিয়া ওরফে শফিক বেপারী বলেন, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঘাগড়া বাজারের পাহারাদার মইন উদ্দিন ফোন করে তাঁকে মিলে আগুন লাগার খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মিলের ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখেন। স্থানীয়দের সহায়তায় পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

তিনি জানান, আগুনে মিলের ঘর, একটি সেলো মেশিন, করাত, বেল্ট, শান পাথর ও কাঠ পুড়ে গেছে। এছাড়া মিলের মূল মেশিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শফিক মিয়া বলেন, “যারা এমন ন্যক্কারজনক কাজ করেছে, তদন্ত করে তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।”

মিল মালিকের ছেলে শামীম মিয়া বলেন, আগুন নেভানোর পর মিল থেকে কিছুটা দূরে ১০ লিটার ধারণক্ষমতার একটি ট্যাংকি পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে কিছু পেট্রোলও ছিল বলে তিনি জানান। তাঁর দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে কেউ পেট্রোল ঢেলে মিলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ট্যাংকিসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে বলেও জানান তিনি।

ঘাগড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালিব বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু মালিকই নন, এর সঙ্গে জড়িত শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও পরিবহনশ্রমিকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ঘাগড়া বাজারের ইজারাদার আবু হানিফ মিয়া বলেন, করাত কলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে কাজ করা অনেক দরিদ্র মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ঘাগড়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি শামছুল হক আকন্দ হীরা বলেন, অগ্নিকাণ্ডে মিল মালিকের পাশাপাশি ভ্যানচালক ও কাঠ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

মিলের ভ্যানচালক ইলিয়াস আলী বলেন, মিলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি সেখানে কাজ করছেন। আগুনের ঘটনায় তাঁদের অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।

এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনিও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।