পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার পূর্বধলায় মসজিদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের সঙ্গে পাশের একটি খানকা শরীফে গান-বাজনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে নছিবপুর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের গেটে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে বুধবার সকালে মসজিদটিতে ফজরের নামাজ আদায় করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন স্থানীয় মুসল্লিরা।
পরে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মুসল্লিদের উপস্থিতিতে মসজিদের গেটের তালা খুলে দেয়। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার নছিবপুর গ্রামের নছিবপুর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
মসজিদ কমিটির অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মসজিদের ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ ওয়াক্ফকৃত জমি নিয়ে স্থানীয় রেজাউল করিম রামিম, উছমান মিয়া ও ইদ্রিছ আলীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তাদের অভিযোগ, রেকর্ড অব সার্ভে (বিআরএস) জরিপে ভুলবশত জমিটি রেকর্ডভুক্ত না হওয়ার সুযোগে ওই জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।
খানকা শরীফে গান-বাজনা নিয়ে আপত্তি
মসজিদ কমিটির অভিযোগ, মসজিদের পাশে ইদ্রিছ আলী ‘খানকায়ে রহমানিয়া সৈয়দ গোলাম মরতুজা মাইজভান্ডারীয়া ইদ্রিছ আলী মাইজভান্ডারি খানকা শরীফ’ নামে একটি মাজার প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেখানে প্রতিরাতে এশার নামাজের পর গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান-বাজনা ও মানুষের আনাগোনা চলত।
এ নিয়ে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজের পর মসজিদের গেটে তালা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলে বুধবার সকালে মুসল্লিরা ফজরের নামাজ আদায় করতে পারেননি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মাওলানা ওয়াসেফ বিল্লাহ নোমানীর নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক মানুষ মসজিদের সামনে জড়ো হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় কয়েকজন মাজারটি ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন।
ঘটনাস্থলে প্রশাসন ও পুলিশ
পরিস্থিতির খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম ও পূর্বধলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ইউএনও ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমান বুলবুলের উপস্থিতিতে মসজিদের গেটের তালা খুলে দেওয়া হয়।
এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে খানকা শরীফে আর গান-বাজনা না করার সিদ্ধান্ত জানানো হলে মাজার কর্তৃপক্ষ তা মেনে নেয় বলে জানান ইউএনও।
তালা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার
তবে মসজিদের গেটে তালা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খানকা শরীফের ইদ্রিছ আলী। তিনি দাবি করেন, তাকে ফাঁসাতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি মসজিদের গেটে কোনো তালা দেননি বলেও জানান।
পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, “মসজিদের গেটে তালা লাগানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মুসল্লি ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। কারা তালা লাগিয়েছে, তা তদন্ত করে বের করার জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “খানকা শরীফে আর কোনো ধরনের গান-বাজনা করা যাবে না—এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে এবং মাজার কর্তৃপক্ষ তা মেনে নিয়েছে।”
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”