দিনাজপুর দক্ষিণ প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী বিরামপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে টিউশন ফি, অর্থের হিসাব-নিকাশ ও অডিট রিপোর্টকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে শিক্ষকদের একটি অংশের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ২০১৮ সাল থেকে বিদ্যালয় থেকে টিউশন ফি না পাওয়া, হিসাব-নিকাশ ও মন্ত্রণালয়ের অডিট রিপোর্টের কপি পাওয়ার দাবিতে গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেন। সম্প্রতি আবেদনপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
প্রধান শিক্ষকের পাল্টা অভিযোগ
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরমান হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ ও রশিদ বই সংক্রান্ত অভিযোগ করেন।
প্রধান শিক্ষকের দাবি, ২০১৪ সাল থেকে জাহাঙ্গীর আলম ২৭টি রশিদ বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি আদায় করলেও ওই অর্থ বিদ্যালয়ে জমা দেননি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাকে রশিদ বই জমা দিতে বললেও তিনি তা করেননি বলে দাবি করেন প্রধান শিক্ষক।
এ ছাড়া জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে পাঠদানে অমনোযোগিতা ও শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং তৈরির অভিযোগও করেন তিনি। প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থসংক্রান্ত অভিযোগ আড়াল করতেই জাহাঙ্গীর আলম ইউএনওর কাছে আবেদন করেছেন।
প্রধান শিক্ষক আরও দাবি করেন, জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী শিক্ষক হারুন-অর-রশিদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত ঈদ উৎসব ভাতা, পরীক্ষার ডিউটি বাবদ সম্মানী, বাসা ভাড়া ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের অর্থ রেজিস্ট্রারে স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেছেন।
শিক্ষকদের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রেজিস্ট্রারে স্বাক্ষরের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন খাতের টাকা গ্রহণ করেছেন। তবে নিয়মিত টাকা পাওয়ার জন্যই তিনি লিখিত আবেদন করেছেন।
তার কাছে থাকা ২৭টি রশিদ বই জমা না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট উপকমিটি না থাকায় বইগুলো জমা দেননি।
অপর সহকারী শিক্ষক হারুন-অর-রশিদও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তবে তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে কোনো গ্রুপিং সৃষ্টি করেননি বলে দাবি করেন।
বিদ্যালয়ে অর্থের হিসাব-নিকাশ, টিউশন ফি ও অডিট রিপোর্ট নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।