নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় এক বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান ও একমাত্র আসামি রবিউল আউয়াল ওরফে রবিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ৩২ বছর বয়সী ওই নারী জন্ম থেকেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। প্রায় আট মাস আগে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর চার বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে তিনি পূর্বধলা উপজেলার ৯ নম্বর খলিশাউড় ইউনিয়নের পাবই (মাইজপাড়া) গ্রামে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিবেশী মো. কামাল উদ্দিন তালুকদারের ছেলে রবিউল আউয়াল ওরফে রবিন (২৪) বিভিন্ন সময় ওই নারীর বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন এবং তাকে কু-প্রস্তাব দিতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ইশারায় ডেকে ওই নারীকে প্রতিবেশী নয়ন মিয়ার একটি ফাঁকা ঘরে নিয়ে যান রবিন। সেখানে গলায় চাপ দিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় প্রতিবেশী মঞ্জুরি বেগম (৪৫) ওই ঘরের দিকে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত ঘর থেকে বের হয়ে উঠানে চলে আসেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারী পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানান। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর পূর্বধলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার
মামলা দায়েরের পর নেত্রকোনা জেলার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামের সার্বিক নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) ফয়সাল আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্তে অভিযান পরিচালনা করেন।
পুলিশের তথ্যমতে, পরে এসআরবি-১, উত্তরা, ঢাকা এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিমানবন্দর থানা পুলিশের সহায়তায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে রবিউল আউয়াল ওরফে রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার বক্তব্যের আইনগত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে গ্রেপ্তার আসামির ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের অনুমতি চেয়ে আদালতে পৃথক আবেদন করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ
এদিকে স্থানীয় সূত্র ও মামলার সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত রবিউল আউয়াল ওরফে রবিন খলিশাউড় ইউনিয়নের চারবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন তালুকদার ওরফে কামাল মেম্বারের ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবারের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এবং ভুক্তভোগীর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার দেন-দরবারের পর ঘটনার প্রায় ১০ দিন পর ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের সময় অনলাইন—সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদে আপনার পাশে।