পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গোজাখালীকান্দা গ্রামের মৃত আব্দুল গফুর খান পাঠানের ছেলে মো. হারুন অর রশিদ খান পাঠানের সঙ্গে তাঁর সহোদর ভাই মো. আবুল কাশেম খান পাঠান (৬০) এবং ভাতিজা মো. বাবু খান পাঠান (২৭) ও মো. রুম্মান খানের দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
হারুন অর রশিদ খান পাঠানের দাবি, ওয়ারিশসূত্রে এবং বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে তিনি মোট ৩ একর ২৯ দশমিক ৮১ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছেন। গত ৩০ আগস্ট সকালে ওই জমিতে হালচাষ করতে গেলে তাঁকে বাধা দেওয়া, মারধর ও গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে দরবার ও সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও সমাধান হয়নি বলে জানান হারুন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিপক্ষের লোকজন জমিতে ধান রোপণ ও পুকুরে মাছ চাষে বাধা দিয়ে আসছেন। এ ঘটনায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর পূর্বধলা থানায় জিডি করেন তিনি। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।
হারুন অর রশিদ খান পাঠান বলেন, তিনি বৈধভাবে কেনা ও পৈতৃক জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু তাঁকে জমিতে ধান ও মাছ চাষ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। জমিতে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদেরও হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে আমন মৌসুমে ৮০ কাঠার বেশি কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে আছে। একইভাবে ৮০ কাঠার বেশি ফিশারিতে মাছ চাষও ব্যাহত হচ্ছে। এতে ধান ও মাছ উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. আবুল কাশেম খান পাঠান বলেন, তাঁদের পূর্বে যৌথভাবে কেনা জমি এখনো সঠিকভাবে বণ্টন হয়নি। এছাড়া ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জমির একটি অংশ থেকেও তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আবুল কাশেমের দাবি, জমি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর পূর্ববিরোধ রয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে একটি সালিশে তাঁর চাষের জমি হারুন অর রশিদ খান পাঠানের নামে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জমি সঠিকভাবে বণ্টন না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে চাষাবাদ করতে দেওয়া হবে না বলে জানান আবুল কাশেম।
এদিকে, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করে জারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল মন্ডল নান্টু বলেন, স্থানীয়ভাবে বসে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু আবুল কাশেম সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে নেননি। তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি। বিষয়টি যেহেতু প্রশাসন ও থানায় গড়িয়েছে, তাই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর সুষ্ঠু সমাধান হওয়া উচিত বলে জানান তিনি।
পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি ও লিখিত অভিযোগ জমা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এ জমি বিরোধের দ্রুত ও আইনানুগ সমাধান হয়ে কৃষিজমি ও ফিশারিতে স্বাভাবিকভাবে চাষাবাদের পরিবেশ ফিরে আসবে।